আপনার প্রশ্ন আমাদের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আপনি প্রশ্ন করলে আমাদের আলেমগণ যতদ্রুত সম্ভব উত্তর প্রদান করবেন।
প্রশ্ন: নামাজ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
উত্তর: নামাজ ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ এবং আল্লাহর সাথে বান্দার সরাসরি সংযোগের মাধ্যম।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "কিয়ামতের দিন বান্দার প্রথম হিসাব নামাজেরই হবে।" (তিরমিযী)
নামাজ মানুষকে অশ্লীল ও মন্দ কাজ থেকে বিরত রাখে (সূরা আনকাবুত: ৪৫) এবং
এটি মুমিনের মিরাজস্বরূপ।
প্রশ্ন: রোজা রাখা কেন ফরজ?
উত্তর: রোজা ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ এবং আল্লাহ তাআলা বলেন,
"হে ঈমানদারগণ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর,
যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।" (সূরা বাকারা: ১৮৩)
রোজা শুধু ক্ষুধা-তৃষ্ণার যন্ত্রণাই নয়, এটি আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহভীতির প্রশিক্ষণ।
রাসূল (সা.) বলেছেন, "রোজা ঢালস্বরূপ।" (বুখারী)
প্রশ্ন: জাকাতের হিকমত কী?
উত্তর: জাকাত ইসলামের চতুর্থ স্তম্ভ এবং সম্পদের পরিশুদ্ধি। আল্লাহ বলেন,
"তাদের সম্পদ থেকে সদকাহ (জাকাত) গ্রহণ কর, যাতে তুমি তা দ্বারা তাদের পবিত্র ও পরিশুদ্ধ করতে পার।" (সূরা তাওবা: ১০৩)
জাকাত সমাজের অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করে, দারিদ্র্য দূর করে এবং সম্পদে বরকত আনে।
এটি মুসলিম সমাজের সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার মূলভিত্তি।
প্রশ্ন: হজ্জ ফরজ হওয়ার শর্ত কী?
উত্তর: হজ্জ ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ। এর ফরজ হওয়ার শর্তগুলো হলো:
১. মুসলমান হওয়া
২. বালিগ হওয়া
৩. সুস্থ মস্তিষ্কের অধিকারী হওয়া
৪. শারীরিক ও আর্থিক সামর্থ্য থাকা
৫. পথ নিরাপদ হওয়া
৬. মহিলাদের জন্য স্বামী বা মাহরাম পুরুষ সঙ্গী থাকা
আল্লাহ বলেন, "এবং মানুষের উপর আল্লাহর জন্য বাইতুল্লাহর হজ্জ করা ফরজ,
যারা সেখানে যাওয়ার সামর্থ্য রাখে।" (সূরা আলে ইমরান: ৯৭)
প্রশ্ন: তাওহীদ কত প্রকার ও কী কী?
উত্তর: তাওহীদ তিন প্রকার:
১. তাওহীদুর রুবুবিয়্যাহ: আল্লাহর একত্ববাদ - সৃষ্টি, রাজত্ব ও পরিচালনায় আল্লাহকে এক ও অদ্বিতীয় মনে করা।
২. তাওহীদুল উলুহিয়্যাহ/ইবাদাহ: ইবাদাত ও উপাসনায় আল্লাহকে এক মনে করা।
৩. তাওহীদুল আসমা ওয়াস সিফাত: আল্লাহর নাম ও গুণাবলীতে তাঁকে এক মনে করা।
আল্লাহ বলেন, "তোমার ইলাহ একক ইলাহ, তিনি ছাড়া কোনো ইলাহ নেই, তিনি দয়াময়, পরম দয়ালু।" (সূরা বাকারা: ১৬৩)
প্রশ্ন: নামাজের সময় নির্ধারণের নিয়ম কী?
উত্তর: নামাজের সময়গুলো কুরআন ও হাদীস দ্বারা নির্ধারিত:
১. ফজর: সুবহে সাদিক থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত
২. জোহর: সূর্য পশ্চিমাকাশে হেলে যাওয়া থেকে প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার সমান হওয়া পর্যন্ত
৩. আসর: প্রতিটি বস্তুর ছায়া তার দ্বিগুণ হওয়া থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত
৪. মাগরিব: সূর্যাস্ত থেকে লাল আভা消失 (শাফাক) পর্যন্ত
৫. ইশা: শাফাক消失 থেকে সুবহে সাদিক পর্যন্ত
রাসূল (সা.) বলেছেন, "নামাজের সময় ফেরেশতাদের সাক্ষ্যে নির্ধারিত হয়েছে।" (বুখারী)
প্রশ্ন: ঈমানের রুকন কয়টি ও কী কী?
উত্তর: ঈমানের রুকন ছয়টি (ঈমানে মুফাসসাল):
১. আল্লাহর উপর ঈমান আনা
২. ফেরেশতাদের উপর ঈমান আনা
৩. আসমানী কিতাবসমূহের উপর ঈমান আনা
৪. রাসূলগণের উপর ঈমান আনা
৫. আখিরাতের উপর ঈমান আনা
৬. তাকদীরের ভালো-মন্দ আল্লাহর পক্ষ থেকে হওয়ার উপর ঈমান আনা
রাসূল (সা.) বলেছেন, "ঈমান হলো- তুমি আল্লাহ, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমূহ,
তাঁর রাসূলগণ ও আখিরাতের উপর ঈমান আনবে এবং তাকদীরের ভালো-মন্দের উপর ঈমান আনবে।" (মুসলিম)
প্রশ্ন: রমজান মাসের ফজিলত কী?
উত্তর: রমজান মাসের ফজিলত অপরিসীম:
১. এ মাসে কুরআন নাযিল হয়েছে (সূরা বাকারা: ১৮৫)
২. এ মাসে লাইলাতুল কদর রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম (সূরা কদর: ৩)
৩. এ মাসে জান্নারের দরজা খুলে দেওয়া হয় ও জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় (বুখারী)
৪. শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয় (বুখারী)
৫. এ মাসে একটি ফরজ ইবাদত ৭০টি ফরজ ইবাদতের সমান সওয়াব লাভ হয় (বায়হাকী)
৬. এ মাসে আল্লাহ অসংখ্য বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন (তিরমিযী)